হিল ভয়েস,১৭ আগস্ট ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতের মিজোরাম রাজ্যের চাকমা অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (সিএডিসি) এর সদরদপ্তর কমলানগরে “চাকমা কালো দিবস” উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (সিএনসিআই), মিজোরাম রাজ্য কমিটি এর উদ্যোগে এবং ইয়াং চাকমা এসোসিয়েশন (ওয়াইসিএ), চাকমা মহিলা সমিতি (সিএমএস) ও মিজোরাম চাকমা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন (এমসিএসইউ) এর সহযোগিতায় মিজোরামের চাকমারা সিএডিসি’র সদরদপ্তর কমলানগরের ‘আর্ট এন্ড কালচারাল হল’-এ এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (সিএনসিআই) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সিএডিসি’র চীফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার নিরুপম চাকমা, সিএনসিআই’র মিজোরাম রাজ্যের সহ-সভাপতি অমর স্মৃতি চাকমা, সিএডিসি’র চেয়ারম্যান কালি কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, সিওয়াইসিএ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সন্তোষ চাকমা, এমসিএসইউ’র সভাপতি পারভেশ চাকমা, সিএমএস, মিজোরাম এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দুমতি দেওয়ান।
এছাড়াও সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন এনজিও কর্মী, সিএডিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তাগণ, বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের রেডক্লিফ এর সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানান, যেখানে ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ এর শর্তের বিপরীতে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগের সময় অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার আইনগত ও শক্তিশালী ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নমনীয়তা অবলম্বন করায় তৎকালীন ভারতীয় নেতাদের দোষারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ, পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৪ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কারণে চাকমাদের ঐতিহাসিক উচ্ছেদের কথা স্মরণ করেন, যখন হাজার হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি ডুবিয়ে দেয়া হয়, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুহীন হয়ে পড়ে। এই কাপ্তাই বাঁধের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে বাধ্য হয় ভারতে আশ্রয় নিতে। ভারত সরকার তাদেরকে অরুণাচল প্রদেশে পুনর্বাসিত করলেও আজ পর্যন্ত ভারতের নাগরিকত্ব তারা পায়নি। তারা এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং তাদের নাগরিক অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে। চাকমা জনগোষ্ঠী ধারাবাহিক অবিচার, হয়রানির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে এবং তাদের নিজেদের পিতৃপুরুষের ভূমিতে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আসামের গৌহাটিতে মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের চাকমাদের কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সিএনসিআই’র জাতীয় সম্মেলনে এই দিনটিকে পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে মিজোরামসহ চাকমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীরা ১৭ আগস্ট দিনটিকে ‘চাকমা কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।