Tuesday, 22 Sep 2026
আন্তর্জাতিক May 31, 2026

মিজোরামে তিন ইউপিডিএফ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার

হিল ভয়েস, ৩১ মে ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: গত রবিবার (২৪ মে) ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পশ্চিম মিজোরামের দামপা টাইগার রিজার্ভ সেক্টর দিয়ে দুর্গম অঞ্চলের পথ ব্যবহার করে মিজোরাম হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টার সময় ভারতীয় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এবং মিজোরাম পুলিশের সিআইডির (বিশেষ শাখা) একটি যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) প্রসিত গ্রুফের তিনজন সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ১) কমল বিকাশ চাকমা ওরফে আপন (৩০), পিতা: কান্দার চিং চাকমা, ঠিকানা: মাচলং, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি; ২) মাহাত্মা গান্ধী চাকমা ওরফে জারবো (৪০), পিতা: মনি কার্বারি চাকমা, ঠিকানা: কজইছড়ি, ভুইয়োছড়ি, সাজেক ইউনিয়ন, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি; ৩) নীহার রঞ্জন চাকমা ওরফে বান্দরবাঘ্যা (৫৫), পিতা: পিরেপুজ্যে চাকমা, ঠিকানা: আজাছড়া, মাচলং, সাজেক ইউনিয়ন, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি।

এই সময় গত ২৪ মে ২০২৬ মিজোরাম পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং:৩১/২০২৬ (২৪ মে ২০২৬), অস্ত্র আইন ১৯৫৯-এর ধারা ২৫(১বি)(এ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ধারা ৬১(২)/৩(৫), অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ধারা ১৩(১), ১৬(১)(বি), ১৮ ও ২০ এবং অভিবাসন ও বিদেশি আইন ২০২৫-এর ধারা ২১।

সূত্র মোতাবেক, পশ্চিম মিজোরামের দামপা টাইগার রিজার্ভ সেক্টর দুর্গম জঙ্গলের পথ ব্যবহার করে মিজোরাম হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টার সময় আইজল জেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর বিএসএফ এবং মিজোরাম পুলিশের সিআইডির (বিশেষ শাখা) যৌথ অভিযানে ইউপিডিএফ (প্রসিত) সদস্যদের আটক স্থান থেকে প্রায় ৮ কি.মি দূরে একটি জঙ্গল এলাকায় লুকিয়ে রাখা ১,৭৯৯ রাউন্ড ৭.৬২ এম.এম তাজা গুলির একটি গোপন ভান্ডার উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে, তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ ফলে মামিত জেলার পশ্চিম ফাইলেং পুলিশ স্টেশনের অধীনস্থ সাইথা গ্রাম থেকে প্রায় ৬ কি.মি দূরে দামপা টাইগার রিজার্ভ সেক্টর থেকে আরেকটি অস্ত্র চালান উদ্ধার করা হয়। এই চালানে দুটি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

এছাড়া আরো জানা যায়, মিজোরামে আইজলে অবস্থানরত ডা. প্রীতি চাকমা এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাংলাদেশে পাচারের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সেই সাথে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্য মিল্টন চাকমা (প্রানেশ/রাজিব) এবং রঞ্জন মনি চাকমা (আদি) এই অবৈধ কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়।

আরো জানা যায় যে, অস্ত্র সংগ্রহের জন্য ইউপিডিএফের (প্রসিত) সদস্য মিল্টন চাকমা ওরফে প্রানেশ/রাজিব ও উজ্জল স্মৃতি চাকমা ওরফে নিয়ন মিজোরামের চাম্পাই ও লংত্লাই জেলা হয়ে মিয়ানমারের চিন প্রদেশ ও রাখাইন প্রদেশে গত ফেব্রুয়ারি-মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সফর করেন। এ কাজের জন্য তারা লংত্লাই জেলায় একজন বম ব্যক্তির নামে ঘর ভাড়া করেছে বলে জানা গেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মোতাবেক, এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের জন্য ইউপিডিএফ (প্রসিত) কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’কে মোটা অঙ্কের অর্থ যোগান দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) পাচঁ জন সদস্যক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে মামিট জেলার সাইথা গ্রাম থেকে মিজোরাম পুলিশ ৬টি একে-৪৭ রাইফেল, ১৩টি ম্যাগাজিন ও ১০,০৫০ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। এই সময় ভারতের সন্ত্রাস বিরোধী আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) কর্তৃক মিজোরামের রাজধানী আইজলের আদালতে উপস্থাপিত চার্জশীটে উক্ত অস্ত্র পাচারের সাথে ইউপিডিএফের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়।

সেই সময়ও কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ইউপিডিএফকে উক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের জন্য সাহায্য করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।