Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার April 19, 2026

রামুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিবাসী কিশোরী হত্যার মামলা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ

হিল ভয়েস, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, কক্সবাজার: গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ রাতে কক্সবাজারের রামুতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক আদিবাসী চাকমা কিশোরী (১৪) বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়।

কিন্তু ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা ক্যউচিং চাকমা বাদী হয়ে গত কয়েকদিন ধরে রামু থানায় মামলা দায়ের করার চেষ্টা করলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া সেই মামলা গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ আজ (১৮ এপ্রিল) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মামলা থেকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ বাদ দিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ না করলে তিনি মামলা গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনকে।

স্থানীয় কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির ভাষ্য, ঘটনা ও মামলা ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষে রামু থানায় ইতোমধ্যে অন্তত ২০ লক্ষ টাকা ঢালা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া বড়ুয়া পাড়ায় সাধন বড়ুয়ার (৫৪) বাড়িতে মায়া চাকমা (১৪), পীং-ক্যউচিং চাকমা-কে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী মায়া চাকমা সাধন বড়ুয়ার বাসায় ৩ বছর যাবৎ গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী মেয়ের পিতা ক্যউচিং চাকমা কর্তৃক থানায় মামলা দায়ের করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাধন বড়ুয়ার ছেলে কৌশিক বড়ুয়া (২৩) দীর্ঘদিন ধরে মায়া চাকমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ৪ এপ্রিল, মায়া চাকমা উক্ত বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করে। মায়া চাকমা কর্তৃক তার পরিবারকে উক্ত বিষয়টি অবহিত করার ঘটনা জানার পর সাধন বড়ুয়ার স্ত্রী শেলী বড়ুয়া (৪৯) ও তার আরেক ছেলে সুমঙ্গল বড়ুয়া (২৬) মায়া চাকমার উপর ক্ষিপ্ত হন এবং মারধর করেন, গালিগালাজ করেন ও দেখে নেবে বলেও হুমকি প্রদান করেন। পরে সাধন চাকমার পরিবারের অন্যরাও মায়া চাকমাকে গালিগালাজ ও নানা হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে গত ১২ এপ্রিল সাধন বড়ুয়ার ছেলে কৌশিক বড়ুয়া (২৩) মায়া চাকমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়ার পর এবং বিষয়টি জানাজানি হলে কৌশিক বড়ুয়া সহ বাড়ির অন্যরা মায়া চাকমাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলে।

পরে সাধন বড়ুয়া মৃত মায়া চাকমার পিতা ক্যউচিং চাকমাকে তার মেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে বলে ফোন করে জানায় এবং পরে মায়া চাকমা আত্মহত্যা করেছে প্রচার করে।

উল্লেখ্য, মায়া চাকমার বাড়ি কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার থাইংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা গ্রামে।

উক্ত ঘটনার পর মায়া চাকমার পিতা ক্যউচিং চাকমা বাদী হয়ে গত ১৪ এপ্রিল থেকে রামু থানায় মামলা দায়ের করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া সেই মামলা গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।