Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার September 9, 2026

রূপগঞ্জে আদিবাসী সাঁওতাল তরুণীর সন্দেহজনক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

হিল ভয়েস, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রিয়া সরেন (১৯) নামের এক আদিবাসী সাঁওতাল তরুণীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রিয়া সরেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের বাঘদাবড়া গ্রামের বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রিয়া জীবিকার তাগিদে প্রায় সাত-আট মাস ধরে রূপগঞ্জের ‘এসিআই সল্ট লিমিটেড’-এ কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়।

স্বজনদের সূত্রমতে, মঙ্গলখালির একটি এক কক্ষের টিনের ভাড়া বাসায় এক মুসলিম সহকর্মীর সঙ্গে থাকতেন রিয়া। ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই রুমমেট গ্রামে যান, ফলে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাসায় একাই ছিলেন তিনি। ওই রাতে তিনি মোবাইল ফোনে শেষবারের মতো তার মা রিবিকা মুরমুর সাথে কথা বলেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে বাড়িওয়ালার পরিবারের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শুরুতে বাড়িওয়ালার পরিবারের পক্ষ থেকে স্ট্রোকে মৃত্যুর দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়ার কথা বলে এটি আত্মহত্যা বলে চালানো হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় কেউ দেখেননি। প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা রিয়ার গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, বাসার মালিক তানিয়া বেগম রিয়াকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং ধর্মান্তরিত করে এক মুসলিম যুবকের সাথে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। এছাড়াও ঘটনার পর থেকে রিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ রিয়ার মা রিবিকা মুরমু। তার অকাল ও সন্দেহজনক মৃত্যুতে দিনাজপুরের বাঘদাবড়া গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।