Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার August 13, 2026

শেরপুরে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আদিবাসী গারো পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

হিল ভয়েস, ১২ আগস্ট ২০২৬, শেরপুর: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্বগজারিকুড়া-বন্দধারা এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা বাঙালি লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের গ্রামের বাঙালিদের একটি দল স্থানীয় আদিবাসী গারো জনগোষ্ঠীর বসতিতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ ১২ আগস্ট ২০২৬, আনুমানিক ২টার দিকে উক্ত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং একটি গ্রামে এখনও চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধারের পর পরই পাশের গ্রামের একদল বাঙালি আদিবাসী অধ্যুষিত বন্দধারা এলাকায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা স্থানীয় কয়েকজনকে মারধর করে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ৬টি বাড়িতে ভাংচুর, ১টি বাড়ির আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়।পরে গারো আদিবাসীদের ৪টি গরু, ১০টি ছাগল, ১টি মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার সময় অসীম ম্রং নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে কয়েকজনকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। গারো ছাত্র সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, আশেপাশের গ্রামের কয়েকজন পথচারীকেও আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ পেয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), স্থানীয় খ্রিষ্টান মিশনের পাল-পুরোহিত এবং আদিবাসী গ্রাম কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যৌথ প্রচেষ্টায় তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থমথমে পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দধারা গ্রামটি একপ্রকার অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও স্বজনদের তাদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। থানার বাইরেও কিছু উৎসুক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন তারা।

পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বন্দধারা ও পার্শ্ববর্তী আদিবাসী গ্রামগুলোতে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এলাকা স্বাভাবিক করতে এবং বন্দধারা গ্রামের অবরুদ্ধ অবস্থা তুলে নিয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।