হিল ভয়েস, ১০ জুন ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: আজ রোজ বুধবার (১০ জুন) ভোর আনুমানিক ৪ ঘটিকায় পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেক ইউনিয়নের কালু ছড়া (বোট ঘাট) নামক স্থানে পাঁচ ত্রিপুরা গ্রামবাসীর পরিশ্রমের ফসল প্রায় ৮০০ মণ শুকনো হলুদ আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদার জন্য মোবাইলে কল দিয়ে না আসায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীদের এই হলুদ পুড়িয়ে দেয় বলে গ্রামবাসীর সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ ভোর সকালে ইউপিডিএফের সহ-সভাপতি নতুন কুমার চাকমা ও কোম্পানি কমান্ডার রঞ্জন মনি চাকমা ওরফে আদের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল ত্রিপুরা গ্রামবাসীদের আরতে মজুদকৃত ৮০০ শত মণ শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেয়। ইতোপূর্বে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য গ্রামবাসীদের কল দিলে গ্রামবাসীরা সাড়া দিতে না পারলে গ্রামবাসীদের এই হলুদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সেখানকার ত্রিপুরা ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর শুকনা হলুদ কিনে কালু পাহাড়ের পাদদেশে কালু নদীর চরে ঘর বানিয়ে মজুদ রাখে। ঐ মজুদকৃত হলুদে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।
এই সময়, আরদ পুড়িয়ে দেওয়ার পর ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি চিরকুট খুজেঁ পায় গ্রামবাসীরা। চিরকুটে লেখা ছিল “তোরে ৮৩৯ ও ৩৭৭ মেসেজ দিয়েছি। যোগাযোগ করতে বলেছি। তুমি গাবদারি করে করো নাই। এ জন্য খতি করতে বাদ্য হলাম”।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সাজেকের লংতিয়ান পাড়ার কার্বারি মিঠুন জয় ত্রিপুরার ৪০০ মণ, অরুণ পাড়া নিবাসী লবেন্দ্র ত্রিপুরা ৩০০ মণ, অরুণ পাড়ার কার্বারী পারসনা ত্রিপুরার আনুমানিক ২০-৩০ মণ, সিবাহন ত্রিপুরার ২০-৩০ মণ এবং কার্তিক কুমার ত্রিপুরার ২০-৩০ মণসহ মোট ৮০০ মণ শুকনো হলুদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা অগুনে পুড়ে যায়।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তরা আতঙ্কে এবং আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ‘ইউপিডিএফ যখনই কোনো বাৎসরিক চাঁদা দাবি করে তখন আমরা না দিয়ে থাকিনি। তারা (ইউপিডিএফ সদস্যরা) গ্রামে এসেও জোরপূর্বক শুকর, ছাগল কেটে ভাত খেয়ে যেতো। তারপরও তারা আমাদেরকে এতো বড় ক্ষতি করলো।’
