হিল ভয়েস, ১২ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক: “বাংলাদেশে আদিবাসী গোষ্ঠী নেই” এবং “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক”—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডাসহ জাতিসত্তাগুলোই এ দেশের আদিবাসী এবং তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট), এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের আদিবাসীদের বহু বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করার সামিল। এর মাধ্যমে আদিবাসীদের জাতিগত পরিচয়কে খর্ব করা হয়েছে। বাংলাদেশ বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার বৈচিত্র্যের দেশ। বাঙালি ও আদিবাসী সকলেই বাংলাদেশি নাগরিক হলেও আদিবাসীরা বাঙালি নন এবং বাঙালিরাও আদিবাসী নন। ‘আদিবাসী’ পরিচয়টি এ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বহুকাল ধরে ধারণ করে আসছে।
পরিষদের পক্ষ থেকে আরো উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগে সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁও, মাহাতো, রাজোয়ার, মালো, পাহাড়ে/মালপাহাড়িয়া, মাহালী, কোল, কোচসহ প্রায় ৩৮টিরও বেশি জাতিসত্তার ৩০ লাখেরও বেশি আদিবাসী বসবাস করেন। তারা বহু আগে থেকেই নিজেদের পরিচয় হিসেবে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করছেন, যা সামাজিকভাবেও সর্বজনগ্রাহ্য। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়’ এবং উত্তরবঙ্গেই ‘আদিবাসী’ নামে ৬৫টির বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বাণীতে আদিবাসীদের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এছাড়া ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০’-এর ৯৭ ধারায় আদিবাসীদের অধিকার ও পরিচয়ের আইনি ভিত্তি রয়েছে।
বৈষম্যহীন দেশ গঠনে সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং আদিবাসীদের নিয়ে অপরাজনীতি বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় এ দেশের সবার পরিচয় ‘বাংলাদেশী’, এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ নেই। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই দেশজুড়ে আদিবাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।