হিল ভয়েস, ১৯ জুন ২০২৬, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট এবং রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), রাজশাহী মহানগর শাখার ‘বার্ষিক পিকনিক ও পুনর্মিলনী- ২০২৬’। আজ ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার দিনব্যাপী নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম কনক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির প্রধান হরেন্দ্রনাথ সিং।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাচুর্য্য চাকমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পিসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির প্রধান হরেন্দ্রনাথ সিং বলেন,
“পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। বিশেষ কোনো ব্যস্ততা না থাকলে আমি প্রতিবারই আসার চেষ্টা করি। আশা করি, শিক্ষার্থীরা সবসময় এভাবে মিলেমিশে থাকবে।
প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম কনক তাঁর দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমার ছাত্র উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করার অর্থ এই নয় যে আমি পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং সবসময় তোমাদের পাশে থাকতে চাই। তোমরা সমাজের অন্যতম দায়িত্বশীল অংশ। তোমাদের দায়িত্ব হলো সুশিক্ষিত হয়ে জাতির হাল ধরা এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
পছেনু মারমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দূরে এসে পড়াশোনা করলেও শিক্ষার্থীদের সবসময় সচেতন থাকতে হবে এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমন চাকমা সমাপনী বক্তব্যে পাহাড়ের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধতার অভাবেই পাহাড়ে অতীতে বহু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, যার বিচার আজো মেলেনি। দুঃখজনকভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নয়। আমাদের এই লড়াই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। তাই প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে এবং তরুণদেরই পাহাড়ের হাল ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে পিসিপির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের নিজেদের শেকড় না ভোলার আহ্বান জানান।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় আনন্দঘন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক খেলাধুলা, ম্যাজিক বক্স এবং ক্যাম্পাসের নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আকর্ষণীয় লটারির আয়োজন করা হয়। খেলাধুলা ও লটারিতে বিজয়ীদের মাঝে চমৎকার সব পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে উক্ত পিকনিক ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।