Tuesday, 22 Sep 2026
মানবাধিকার July 28, 2026

দুই বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ২৯৬৩ টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার: ঐক্য পরিষদ

হিল ভয়েস, ২৭ জুলাই ২০২৬, ঢাকা: আজ ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এ সময় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন অর্থাৎ বিগত ৬ মাসে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা (আংশিক) ঘটার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার ৪৪ জন; নারী নির্যাতন/ধর্ষণ/গণধর্ষণ ৫টি; অপহরণ/চাঁদা দাবি/নির্যাতন ১০টি; হামলা/হত্যার হুমকি/নির্যাতন ৪২টি; উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৬২টি; উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টা ১৫টি; বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৪৭টি; কথিত ধর্মঅবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার ও নির্যাতন ৯টি; জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ২১টি; অন্যান্য ৬টি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ৩১ ডিসেম্বর- এ ৫ মাস, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর- এ ১২ মাস এবং চলতি বছরের প্রথম ৬ মাস- এ ২৩ মাসে সংঘটিত মোট ২৯৬৩টি ঘটনার ৭৩.৭% সংঘটিত হয়েছে ৫ আগস্ট পরবর্তী ৫ মাসে। এ সময়কালটি ছিল ব্যাপক আকারের গণসহিংসতার পর্যায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থাপনা। ২০২৫ সালে সংঘটিত হয়েছে মোট ঘটনার ১৭.৬%। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংঘটিত হয়েছে মোট ঘটনার ৮.৭%। ২০২৪ সালের সহিংসতার মাত্রা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুন বেশি ছিল। মোট সহিসংতার প্রায় ৭০% ছিল বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা; প্রায় ১০% ঘটনা ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে; প্রতি ২১টি ঘটনায় গড়ে ১ জন মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে প্রায় ১টি ধর্মীয় স্থাপনার উপর হামলা ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মোট ২৩ মাসে ২০৫৫টি সংঘটিত ঘটনায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ও বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতির অবক্ষয় ঘটেছে, আইন ও বিচার ব্যবস্থার আস্থা হ্রাস পেয়েছে।

২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ঘটনার চিত্র তুলে ধরে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ঘটনার সংখ্য্যা পরবর্তী ১৮ মাসে কমলেও হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং ধর্মঅবমাননার অভিযোগে হয়রানীর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, সহিংসতা গণআক্রমণ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যে একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

বিগত ৬ মাসে চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সময়য়ে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার ৪৪ জন; নারী নির্যাতন/ধর্ষণ/গণধর্ষণ ৫টি; অপহরণ/চাঁদা দাবি/নির্যাতন ১০টি।

একই সময়ে হামলা/হত্যার হুমকি/নির্যাতন ৪২টি; উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৬২টি; উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টা ১৫টি; বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৪৭টি; কথিত ধর্মঅবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার ও নির্যাতন ৯টি; জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ২১টি; অন্যান্য ৬টি ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ৮ টি দাবি জানানো হয়। অন্যতম দাবিগুলো হলো- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন; অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে যাবতীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে জমির মালিকানা ও দখল ভুক্তভোগীদের বরাবরে অনতিবিলম্বে প্রত্যর্পণ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের অন্যতম সভাপতি মি. নির্মল রোজারিও; সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, হীরেন্দ্রনাথ সমাজদার হীরু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ বসু; সাংগঠনিক সম্পাদক দিপংকর ঘোষ, পদ্মাবতী দেবী; যুব বিষয়ক সহ-সম্পাদক বলরাম বাহাদুর; সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক অর্জুন বৈদ্য; ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিপংকর চন্দ্র শীল প্রমুখ।